আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলা এবং দেশটির বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপের পর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন সামরিক অভিযান শুরু হয়। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলবর্তী একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌ-সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়। ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম বন্দর আব্বাস, কিশ দ্বীপ ও বন্দর ইমাম খোমেনি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে।
হামলার জবাবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। কুয়েত ও জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, কিছু লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের তেল ও গ্যাস রপ্তানি কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা সতর্ক করে বলেছে, ইরানের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ থাকলে এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের জ্বালানি রপ্তানিও নির্বিঘ্ন থাকবে না।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে সামরিক চাপ প্রয়োগকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।
চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় এ অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরাইলের ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply