আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবাননে মোতায়েন করা ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করছেন সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তিনি নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ট্রাম্পের বার্তা ছিল—“তারা সেখানে আপনাদের চায় না। আপনাদের পুনঃমোতায়েন করা উচিত।” লেবাননের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নেতানিয়াহু এ মুহূর্তে বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জনমত এবং ব্যক্তিগত আইনি বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিস্থিতিতে সিরিয়ায় দখল করা এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া বা লেবাননে বড় ধরনের পুনঃমোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন হতে পারে।
বর্তমানে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থান করছে। ইসরাইলের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মতো ভবিষ্যৎ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন।
তবে ইসরাইল সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা এসব এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবিও তুলেছেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ফোনালাপে নেতানিয়াহু ইসরাইলের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই আলোচনা হয় তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে ট্রাম্পের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করে আসছিল। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নেতানিয়াহু প্রত্যাশিত ছাড় দিতে আগ্রহী নন।
ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল যে এলাকাগুলো দখলে নিয়েছে, সেখান থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় ছিল।
সম্প্রতি দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় সিরিয়ার নাগরিকদের বিক্ষোভ ও ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
লেবানন ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রোমে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে ইসরাইল ও লেবাননের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্ধারিত ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এখনো ওই এলাকাগুলো থেকে ইসরাইলি সেনা সরানো হয়নি।
লেবানন সরকার দ্রুত সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু এবং পরবর্তী ধাপের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি চাইলেও ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন, আগে নিশ্চিত হতে হবে ওই এলাকাগুলোতে হিজবুল্লাহর কোনো অস্ত্র বা সামরিক অবকাঠামো অবশিষ্ট নেই।
অন্যদিকে লেবাননের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত যাচাই ও সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা থাকা উচিত।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের নিরাপত্তা ও শান্তির অন্যতম বড় সমর্থক।”
Leave a Reply