ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মহারণ ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় মুখোমুখি হবে দুই শক্তিশালী দল। ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দলের সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকদের কথার লড়াই শুরু হয়ে গেছে।
এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার জো কোল। লিওনেল মেসিকে আটকানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করে তিনি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়েরার ও মাইকা রিচার্ডসের সঙ্গে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন জো কোল। সেখানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের কৌশল নিয়ে কথা ওঠে।
২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা কোল বলেন, “মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেব।” তার এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য সাবেক তারকারা কিছুটা সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানান।
তারা মনে করেন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ বড় ম্যাচে মেসি যেকোনো সময় নিজের সেরাটা দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
তবে মাইকা রিচার্ডস মনে করেন, আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে ইংল্যান্ডকে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে হবে। তার মতে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে অভিজ্ঞতা, কৌশল ও জয়ের মানসিকতা। তবে ইংল্যান্ডের গতি ও তরুণ শক্তি ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
রিচার্ডস বলেন, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জন্য কাজটি কঠিন হবে। তবে দলের সামর্থ্যের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি মনে করেন ইংল্যান্ড জয়ের সম্ভাবনা রাখে।
মেসিকে নিয়ে জো কোলের এই মন্তব্য অবশ্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কারণ অতীতে তিনি বহুবার আর্জেন্টাইন তারকার প্রশংসা করেছেন। এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তুলনায় মেসিকে এগিয়ে রেখেছিলেন এই সাবেক ইংলিশ তারকা।
এর আগে এক মন্তব্যে কোল বলেছিলেন, মেসির ধারাবাহিক সাফল্য ও অর্জন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। তার মতে, মেসি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি প্রায় সবকিছুই জিতেছেন এবং নিজের জায়গা নিজেই তৈরি করেছেন।
এখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা কতটা কাজে আসে, সেটিই দেখার বিষয়। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি কথার লড়াইও যে ম্যাচের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।
Leave a Reply