তিস্তা টিভি ডেস্ক
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও পরিকল্পিত করতে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৪ জেলার ৪৮৮টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৫১টি নির্বাচিত বিদ্যালয়সহ মোট ৫৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ডিপিইও) নির্ধারিত ছকে বিদ্যালয়গুলোর তথ্য যাচাই করে প্রত্যয়নপত্র পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, “বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন” শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়গুলো নির্বাচন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দেশের প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামোগত মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৬৪ জেলার ৪৮৮টি মডেল বিদ্যালয়ের তথ্য ইন্টিগ্রেটেড প্রাইমারি এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (iPEMIS) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকার আরও ৫১টি বিদ্যালয়কে আলাদাভাবে প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোর তালিকা সঠিক, হালনাগাদ এবং নির্ভুল হওয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে জেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ জেলার অন্তর্ভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করতে হবে। এই প্রত্যয়নপত্রে সংশ্লিষ্ট ডিপিইওর স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, আগামী ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে এসব তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনার সঙ্গে ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকার নির্বাচিত বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং প্রত্যয়নপত্রের নমুনা সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, ভবন উন্নয়ন, স্যানিটেশন সুবিধা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং শিক্ষা সহায়ক অবকাঠামো আরও আধুনিক ও মানসম্মত হবে।
ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, উন্নত ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে, যা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply