তিস্তা টিভি ডেস্ক
বর্তমান সরকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সব নাগরিকই সরকারের সমান সুবিধাভোগী। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমানভাবে রাষ্ট্রীয় সেবা দেওয়া হবে।
বুধবার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে দেশের ২০টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন—সব ক্ষেত্রেই জনগণই মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাই দেশ গড়ার কাজেও জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা; আর জনগণের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শ্রম ও শক্তিই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সরকার একা কোনো দেশ গড়তে পারে না—সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি এবং বাংলাদেশকেই নিজের শেষ ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যখনই দেশ স্থিতিশীলতার পথে এগোয়, তখনই কিছু মহল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অতীতে হরতাল, অবরোধ ও সহিংস আন্দোলনের কারণে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ ভয়ের বাইরে থেকে মত প্রকাশ করতে পারছেন, যা গণতন্ত্রের বড় অর্জন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড, শিক্ষাবৃত্তি, চিকিৎসা সহায়তা, চা-শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করতে চায়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো সরাসরি সহায়তা পাবে।
অনুষ্ঠানে একযোগে দেশের ২০ জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে তিনি বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীদের হাতে কার্ড, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সভায়ও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি স্থানীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply