জাতিসংঘ বিশেষ দূতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
Reporter Name
Update Time :
Thursday, May 21, 2026
13 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানেজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যত তুলে নেওয়া হয়।
এর আগে এক ফেডারেল বিচারক ওই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়ার কারণে আলবানেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি হতে পারে।
ফ্রান্সেসকা আলবানেজ একজন ইতালীয় আইনজীবী এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ইসরায়েলি ও মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ বিবেচনার সুপারিশ করেছিলেন। পাশাপাশি একটি প্রতিবেদনে কয়েকটি মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহযোগিতার অভিযোগেও অভিযুক্ত করেন তিনি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, তিনি আইসিসিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছেন। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও আর্থিক লেনদেন সীমিত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে আলবানেজের পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার স্বামী ও মার্কিন নাগরিক কন্যা এ বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
১৩ মে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক রিচার্ড লিওনে রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করলেও সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী আলবানেজের মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত। আদালত আরও মন্তব্য করেন, প্রশাসনের পদক্ষেপটি তার মতামত ও বক্তব্যের কারণে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
আদালতের ওই রায়ের পর মার্কিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল জানায়, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর থাকা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ স্থগিত থাকবে। পরবর্তীতে সেটিই কার্যত প্রত্যাহারের পথে এগোয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
Leave a Reply