ক্রীড়া ডেস্ক
মেজর লিগ সকারে এমন নাটকীয় ম্যাচ খুব কমই দেখা যায়—৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার! লিওনেল মেসির দল ইন্টার মিয়ামি এমন এক ম্যাচ খেলল, যা তারা দ্রুত ভুলে যেতে চাইবে। স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ৩-০ লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বসে তারা।
ম্যাচটি যেন দুই অর্ধে দুই রকম গল্প। শুরু থেকেই দাপট দেখায় মিয়ামি। ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই তেলাস্কো সেগোভিয়ার ক্রস থেকে মিকায়েলের হেডে এগিয়ে যায় তারা। ২৫ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ ও মেসির দারুণ সমন্বয়ে সেগোভিয়া দ্বিতীয় গোল করেন। এরপর দূরপাল্লার অসাধারণ শটে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি নিজেই—৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিয়ামি, ম্যাচ তখন একেবারেই তাদের নিয়ন্ত্রণে।
তবে বিরতির আগে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় অরল্যান্ডো। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার মার্তিন ওহেদার গোলে ব্যবধান কমে ৩-১ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে পুরো চিত্রটাই বদলে যায়। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাল্টা আক্রমণে মনোযোগ দেয় মিয়ামি, কিন্তু আক্রমণে কার্যকারিতা না থাকায় আর গোল বাড়াতে পারেনি তারা।
উল্টো অরল্যান্ডো ধীরে ধীরে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে। মার্তিন ওহেদা নিজের সেরাটা দেখিয়ে আরও দুটি গোল করে ম্যাচ ৩-৩ সমতায় আনেন, সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে মিয়ামির রক্ষণভাগ। এরপর ইনজুরি টাইমে টায়ারিস স্পাইসারের গোলেই নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে অরল্যান্ডো—৪-৩।
এই হার শুধু একটি ম্যাচ হার নয়, বরং বড় ধাক্কা মেজর লিগ সকার-এ মিয়ামির অবস্থানের জন্যও। বিশেষ করে এপ্রিলের শুরুতে নতুন মাঠ নু স্টেডিয়াম চালু হওয়ার পর থেকে টানা চার ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পায়নি দলটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচে এগিয়ে থাকার পরও রক্ষণে দুর্বলতা, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়াই মিয়ামির এই অবিশ্বাস্য হারের মূল কারণ। অন্যদিকে, অরল্যান্ডোর এই প্রত্যাবর্তন এমএলএস ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় কামব্যাক হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।
Leave a Reply