ডেস্ক রিপোর্ট
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১১০টি ফ্লাইটে মোট ৪৩ হাজার ৭৭৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। রোববার (৩ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব ফ্লাইট অবতরণ করেছে।
হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, হজযাত্রীদের পরিবহন কার্যক্রম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি যাত্রীরাও সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।
হজ বুলেটিন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭ জন হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মারা গেছেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় দাফন ও আনুষ্ঠানিকতা সৌদি আরবেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত মেডিকেল টিম এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ১৭৫ জন হজযাত্রীকে সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে আরও ৯ হাজার ৭৩০ জন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সহায়তা পেয়েছেন, যা হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবার কার্যকারিতা তুলে ধরছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। এই কার্যক্রম পরিচালনায় ৬৬০টি এজেন্সি কাজ করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।
বিমান সংস্থাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৫১টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৮৫৯ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ফ্লাইটে ১৫ হাজার ৮৮ জন এবং ফ্লাইনাসের ২০টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৮২৬ জন হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
এদিকে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস এখন পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ৩১৬টি হজ ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৪৫টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৮৭১টি ভিসা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করে, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে এবং ৩০ জুন শেষ ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছানোর মাধ্যমে এবারের হজ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা, আবাসন, চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
Leave a Reply