শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ও ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা থেকে বের করে বাস্তবমুখী শিক্ষা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস (হ্যাপি)। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজনীয় হলেও সেটি যেন শিশুদের শৈশব, মানসিক বিকাশ ও নৈতিক শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত না করে।
বুধবার (২০ মে) জলঢাকা উপজেলা মডেল মসজিদে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত “নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মউশিক শিক্ষকদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক শিশু-কিশোর মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে, যার ফলে তারা পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক শিষ্টাচার এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি সুন্দর ও নৈতিক সমাজ গঠনের জন্য পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের সঠিক পথে গড়ে তুলতে হলে তাদের জন্য আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যেখানে তারা বই, খেলাধুলা, নৈতিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
সংগঠনের উপজেলা সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মউশিক সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম খলিল। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ ফেরদৌস ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোঃ মোখলেছুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির; আলহাজ কামারুজ্জামান, নায়েবে আমিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সমন্বিত উদ্যোগ এবং নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ছাড়া একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সদস্য, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল শিক্ষামূলক, প্রাণবন্ত ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন।
Leave a Reply