ন্যায় ও ইনসাফ ছাড়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: এমপি ওবায়দুল্লাহ সালাফি
Reporter Name
Update Time :
Wednesday, May 20, 2026
21 Time View
মোনাব্বেরুল হক মোনা নীলফামারী প্রতিনিধি
দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সাধারণ মানুষ তাদের প্রকৃত অধিকার ফিরে পাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
বুধবার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা মডেল মসজিদে আয়োজিত “নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মউশিক শিক্ষকদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ, জলঢাকা উপজেলা কমিটি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ওবায়দুল্লাহ সালাফি বলেন, সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে আগে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ জাতি গঠনের কারিগর। তাই শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। শিশু ও কিশোরদের সঠিক জীবনবোধ, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিক চর্চা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস (হ্যাপি) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফেরদৌস ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জলঢাকা। প্রধান আলোচক ছিলেন মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সভাপতি, মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ, নীলফামারী জেলা শাখা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মোখলেছুর রহমান, আমির, জলঢাকা উপজেলা জামায়াত; আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, নায়েবে আমির; মোঃ মোয়াম্মার আল হাসান, সেক্রেটারি এবং মোঃ মোজাহিদ মাসুম, সহ-সেক্রেটারি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সদস্য, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে গুণী ও অবদান রাখা শিক্ষকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ভরপুর।
Leave a Reply