নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জলঢাকা বাজার এখন পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত কোরবানির পশুর হাটে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে পুরো এলাকা যেন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। দূর-দূরান্তের রংপুর, সৈয়দপুর, ডোমারসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে খামারিরা ট্রাক ও পিকআপে করে গরু নিয়ে আসছেন এই হাটে।
হাটজুড়ে দেশীয় জাতের পাশাপাশি ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল ও উন্নত সংকর জাতের গরুর সমাহার দেখা যাচ্ছে। আকার, ওজন ও স্বাস্থ্যভেদে গরুর দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি হলেও বড় ও আকর্ষণীয় গরুর প্রতিও ক্রেতাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য। অনেক ক্রেতা কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘুরে পছন্দের পশু বেছে নিচ্ছেন।
স্থানীয় খামারিরা জানান, এবার পশু পালন ও খাদ্য খরচ আগের তুলনায় বেশি হলেও বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। তারা মনে করছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে বেচাকেনা আরও বেড়ে যাবে এবং ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে।
ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই হাটে এসে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু কিনতে সময় নিচ্ছেন। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে পুরো হাটে তৈরি হয়েছে গ্রামীণ ঈদ উৎসবের এক অনন্য আবহ।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল, জাল টাকা শনাক্তকরণ টিম, পশু চিকিৎসার জন্য ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকায় স্বস্তিতে বেচাকেনা করছেন সবাই।
হাটে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে হাট বসানো, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ভিড় ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমজমাট হয়ে উঠছে জলঢাকা বাজারের এই ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং ঈদ আনন্দ, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনের এক বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
Leave a Reply