মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
Reporter Name
Update Time :
Thursday, May 21, 2026
16 Time View
তিস্তা টিভি ডেস্ক
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু সহানুভূতির জায়গা থেকে নয়, বরং দক্ষ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলাভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার সাভারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্মাণাধীন ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের অন্য শিশুদের মতো সমান সুযোগ পাক। তারা যেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে, খেলাধুলা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে।”
তিনি জানান, একটি মানবিক ও ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য থেকেই সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
সাভারে নির্মাণাধীন ক্রীড়া কমপ্লেক্স সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এটি হবে দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। এখানে থাকবে আধুনিক স্পোর্টস লার্নিং সুবিধা, মেডিকেল ফিজিওথেরাপি সেন্টার, জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর ও আউটডোর গেমিং ব্যবস্থা, কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি জোন এবং ধর্মীয় উপাসনার জন্য মসজিদ।
তিনি বলেন, দেশে শারীরিক, মানসিক, সাইকোলজিক্যাল ও ডেভেলপমেন্টালসহ প্রায় ১১ ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্যারা অলিম্পিকের মতো বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশেও উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ ক্রীড়া প্রতিভা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অনেক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন এবং স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। তাদের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জন সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা সমাজের বোঝা নয়, বরং সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠুক। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”
মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি ২০২১ সালে গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ ব্যাহত ছিল। বর্তমানে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি বলেন, নদীর তীরবর্তী মনোরম পরিবেশে নির্মিতব্য এই কমপ্লেক্সকে আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি সংক্রান্ত কিছু সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রকল্পে কোনো ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়নি। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে এবং সেটি সরকারি সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ তদারকি করছে। তারপরও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতির ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
Leave a Reply