তিস্তা টিভি ডেস্ক
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নন। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পেলে তারাও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টার-এ আয়োজিত ‘স্পেশাল অ্যাবিলিটি সামিট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হিউম্যান কেয়ার।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যাতে তারা সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে পারেন।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের পরিবার কখনোই একা নয়। সরকার, সমাজ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, অনেক অভিভাবকের মনে একটি বড় উদ্বেগ কাজ করে—তাদের অনুপস্থিতিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে। এ দুশ্চিন্তা দূর করতে সরকার ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবাও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, প্রয়োজন মমত্ববোধসম্পন্ন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল।
তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে একটি সত্যিকার অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে হিউম্যান কেয়ারের উদ্যোগের প্রশংসা করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমে প্রয়োজন হলে সরকার কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে তিনি সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদেরও এ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক, অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সমাজসেবক রাগীব আলী, হিউম্যান কেয়ারের উপদেষ্টা শামা হক চৌধুরী ও সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
Leave a Reply