মোঃ এমদাদুল হক ডেস্ক রিপোর্ট, তিস্তা টিভি:
নীলফামারীর জলঢাকা থানার সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবার মানোন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বার্ষিক প্রশাসনিক পরিদর্শন করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাইরুজ্জামান। পরিদর্শন শেষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে থানা চত্বরে একটি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
আজ (তারিখ উল্লেখ করুন) সকালে জেলা প্রশাসক জলঢাকা থানায় পৌঁছালে থানার পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক থানার ডিউটি অফিস, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) শাখা, মামলা রেকর্ড সংরক্ষণ কক্ষ, হাজতখানা, মালখানা, অস্ত্রাগার এবং সেবাপ্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। তিনি থানায় আগত সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যমান সেবার মান, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশি সেবার মূল ভিত্তি। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি থানায় আগত প্রত্যেক নাগরিককে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং অসহায় মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে দেশব্যাপী চলমান বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জলঢাকা থানা চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি নিজ হাতে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। তারা উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরও পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। প্রত্যেক সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনকে এ কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পরিদর্শক (তদন্ত), উপ-পরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও থানা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
থানা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারের সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জলঢাকা থানায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে থানা চত্বরকে আরও মনোরম, ছায়াঘেরা ও পরিবেশবান্ধব স্থানে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনসেবার মান উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রশাসন-পুলিশের সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন।
Leave a Reply