ক্রীড়া ডেস্ক
আরেকবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন ছিল। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে—এমন আলোচনার মধ্যেই শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। ফাইনাল শেষে গলায় রানার্সআপের পদক ঝুলিয়ে আবেগে ভেঙে পড়তে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল স্পেনের। বলের দখল, আক্রমণ, পাসিং কিংবা সুযোগ তৈরি—প্রায় সব বিভাগেই এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। ম্যাচের পরিসংখ্যানও সেটিই বলছে। স্পেন ২০টি শট নেয়, যেখানে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে নিতে পারে মাত্র দুটি। পাসের সংখ্যাতেও বিশাল ব্যবধান ছিল; স্পেন ৮৪৫টি সফল পাস সম্পন্ন করে, বিপরীতে আর্জেন্টিনার ছিল ৪৩৩টি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে আক্রমণের ধার—সব ক্ষেত্রেই লা রোজা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয়।
শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় ভেঙে পড়েন মেসি। কিছুক্ষণ মাঠেই বসে থাকেন তিনি। পরে সতীর্থদের সঙ্গে দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গিয়ে চোখের জল লুকাতে পারেননি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক তখনও তার নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেসি বলেন, “আমি দুঃখিত। তবে আমি জানি, আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি, কিন্তু আজ আমরা আমাদের সেরাটা দেখাতে পারিনি।”
পরাজয়ের পর কোনো অজুহাত না দিয়ে প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকার করেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তারা এই জয় প্রাপ্য। আমরা হেরেছি এবং সেই ফল মেনে নিচ্ছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা এতদিন যা অর্জন করেছি, তা মূল্যহীন হয়ে গেল। আমি আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, সমর্থক এবং পুরো দেশের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল স্পেন। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট—প্রতিটি ধাপেই তারা নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। ফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আর্জেন্টিনাকে খুব বেশি সুযোগই দেয়নি স্প্যানিশরা। অন্যদিকে, মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা লড়াই করলেও প্রতিপক্ষের কৌশল ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি।
এই পরাজয়ের পর মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বয়সের বিবেচনায় এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছে। যদিও তিনি এখনো অবসরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি, তবু ফাইনাল শেষে তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছেই এক যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত হয়ে ধরা দিয়েছে।
শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ না হলেও, পরাজয়ের মুহূর্তেও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানো এবং নিজের দলের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে আবারও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় তার চোখের জল শুধু একটি হার নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা অধ্যায়ের আবেগঘন এক স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল।
Leave a Reply