আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলার প্রভাবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় উপকূলীয় একটি পানি লবণাক্ততামুক্তকরণ (ডেসালিনেশন) প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস করা ২০টি গ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) হরমুজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবদুল হামিদ হামজেহপুর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে অবস্থিত ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে হামলার কারণে পানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাগরের পানি উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত একটি পাম্পিং স্টেশন এবং প্ল্যান্টের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামজেহপুরের দাবি, হামলায় ডেসালিনেশন প্ল্যান্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সরবরাহ করার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান এ ঘটনাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা দ্রুত মেরামত করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে উপকূলীয় ও শুষ্ক অঞ্চলে ডেসালিনেশন প্ল্যান্টগুলোই অনেক মানুষের প্রধান পানির উৎস হওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
হরমুজগান ইরানের অন্যতম উপকূলীয় প্রদেশ, যেখানে সমুদ্রের পানি পরিশোধন করে পানীয় জলের চাহিদা পূরণ করা হয়। বিশেষ করে দ্বীপ ও উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি সেবার ওপর হামলার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply