ক্রীড়া ডেস্ক
বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে, কিন্তু লিওনেল মেসির ফুটবল প্রতিভায় যেন এতটুকুও ভাটা পড়েনি। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আবারও প্রমাণ করেছেন—অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও মুহূর্ত বদলে দেওয়ার ক্ষমতায় তিনি এখনো অনন্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠা মেসির প্রশংসায় এবার মুখ খুলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে একসময় বিদায়ের শঙ্কায় ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিক পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল থমাস টুখেলের দল।
তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলে যায় পুরো চিত্র। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি নিজের অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেন। তার নিখুঁত দুটি অ্যাসিস্ট থেকেই গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন পরাজয়ের হতাশার মধ্যেও মেসির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বড় খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরেন। প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে বল পেলে তারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
কেইনের ভাষায়, মেসি আবারও দেখিয়েছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। তার মতে, মেসির দীর্ঘদিনের সাফল্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল সতর্ক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক লড়াই এবং রক্ষণাত্মক কৌশলই বেশি দেখা যায়। ফলে বিরতিতে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড দীর্ঘ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। কিন্তু শেষদিকে মেসির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে তার তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
এই হারের ফলে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হলেও, ম্যাচ শেষে কেইনের মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। কারণ প্রতিপক্ষের একজন কিংবদন্তিকে নিয়ে এমন প্রশংসা ফুটবলের সৌন্দর্যকেই তুলে ধরে।
মেসির বয়স নিয়ে আলোচনা থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি এখনো সমান কার্যকর। নেতৃত্ব, পাসিং, ম্যাচ বোঝার ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা দিয়ে আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার উপস্থিতি এখনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।
Leave a Reply