তিস্তা টিভি ডেস্ক
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, আবু সাঈদ মৃত্যুকে ভয় পাননি; বরং সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে মৃত্যুকেও জয় করেছেন।
বুধবার (১৬ জুলাই) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই শহিদ দিবস ও শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেরোবি ও রংপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্মরণসভায় আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আবু সাঈদ ভয়হীনতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার সাহসিকতা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছিল।
আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র-জনতা মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করেই রাজপথে নেমেছিল। সাধারণ মানুষ, মা-বাবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। আবু সাঈদ, ওয়াসীম ও মুগ্ধসহ যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
তিনি আরও বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে আবু সাঈদের আত্মত্যাগ গণআন্দোলনে নতুন গতি তৈরি করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশ পরিচালনা করতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।
শহিদ আবু সাঈদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, নিজের জীবন উৎসর্গ করে আবু সাঈদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার আত্মত্যাগের কাছে জাতি চিরঋণী।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা থাকলেও জুলাইয়ের চেতনাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আহমেদ আযম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে আবাসিক হল, টিএসসি, আবু সাঈদ গেট এবং তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুই হাত প্রসারিত করে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তার ছবি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। পরে তার মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
Leave a Reply