আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের কাছে প্রায় ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নন-ন্যাটো মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
অনুমোদিত প্যাকেজের আওতায় সৌদি আরব সর্বোচ্চ ২০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল উইপন সিস্টেম (APKWS) এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারহেড সংগ্রহ করতে পারবে। এই অস্ত্রব্যবস্থা মূলত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি, যা কম খরচে পরিচালনা করা সম্ভব এবং আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও তুলনামূলক কম।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, APKWS প্রযুক্তি প্রচলিত রকেটকে উচ্চ-নির্ভুলতার অস্ত্রে রূপান্তর করে, যা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা অভিযানে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই অস্ত্রচুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট সেবা সরবরাহ করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আরও সক্ষম হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই অনুমোদন দেওয়া হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা, ইয়েমেনকে ঘিরে অস্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে কৌশলগত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ওয়াশিংটন।
তবে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে তাদের আশা।
Leave a Reply