ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে মুখ খুলেছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত মেসিদের চাপ সামলাতে পারেনি থমাস টুখেলের দল। শেষদিকে আর্জেন্টিনার দুই গোলে স্বপ্নভঙ্গ হয় ইংল্যান্ডের।
ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কেইন বলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই ভাবার সময় আসেনি। তিনি জানান, ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চান এবং আগামী কয়েক বছরে নিজের শারীরিক অবস্থা ও পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
কেইন বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার জন্য সবসময়ই বিশেষ গর্বের বিষয়। ইংল্যান্ডের জার্সি তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে চার বছর পরের বিষয় এখনই নির্ধারণ করতে চান না তিনি।
৩২ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, আগামী গ্রীষ্মে তার বয়স হবে ৩৩। তবে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা টানতে চান না তিনি। এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে কেইন বলেন, ৩৯ বছর বয়সেও মেসি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করছেন, যা প্রমাণ করে বয়স সবসময় বাধা নয়।
কেইনের ভাষ্য, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বকাপের এই কঠিন পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া।
এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে দারুণ ফর্মে ছিলেন কেইন। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা ৬। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করতে পারলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তার।
তবে গোলের লড়াইয়ে বর্তমানে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৮।
কেইনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি আরও কতদিন খেলবেন। তবে তার নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট, বয়স নয়; পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতাই ঠিক করবে ভবিষ্যতের পথ।
Leave a Reply