আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার সামরিক অভিযান এবং দেশটির বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের পর বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এর প্রভাবেই বুধবার (১৫ জুলাই) লেনদেনের শুরু থেকেই তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৩১ ডলারে ওঠে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর জাহাজ ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন অবকাঠামো এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজের বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকমের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে ইরানের হামলায় একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন নাবিক নিহত, আহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান এসব পদক্ষেপের কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। তাই এ অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সল কেভোনিক বলেন, নতুন করে সামরিক হামলা ও নৌ অবরোধের ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তাঁর মতে, এই উত্তেজনা যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আর মধ্যপ্রাচলের জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হলে তেলের বাজারে আরও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
Leave a Reply