1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
July 4, 2026, 3:00 pm

বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প লিখে বিদায় নিল ভোজিনহা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 4, 2026
  • 18 Time View

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের এবারের আসরে প্রথমবার অংশ নিয়েই একাধিক দল ও খেলোয়াড় বিশ্ব ফুটবলে তৈরি করেছে নতুন চমক। কুরাসাও, কেপ ভার্দে ও ডিআর কঙ্গোর মতো দলগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছে ফুটবলবিশ্বের। রূপকথার মতো এই যাত্রায় নায়ক হয়ে উঠেছেন কয়েকজন অপ্রত্যাশিত তারকা।

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা এই টুর্নামেন্টে নিজেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। চার ম্যাচে তিনি আটটি নিশ্চিত গোল সেভ করেছেন। স্পেনের বিপক্ষে সাতটি এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি। এমনকি লিওনেল মেসির শটও ঠেকিয়ে আলোচনায় আসেন ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। দলের কঠিন মুহূর্তে ভেঙে না পড়ে সতীর্থদের সাহস জুগিয়েছেন তিনি, হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার প্রতীক।

অন্যদিকে কুরাসাও প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। শক্তিশালী ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে তারা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে। গোলরক্ষক এলয় রুম একাই ১৫টি সেভ করে গড়ে তোলেন নতুন রেকর্ড। যদিও দলটি পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারেনি, তবুও তাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।

জার্মানির বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত জয়ের নায়ক অরল্যান্ডো গিল। রাউন্ড অব ৩২-এ টাইব্রেকারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শট বাঁচিয়ে দলকে জয় এনে দেন তিনি। জীবনের কঠিন সময়েও লড়াই করে ওঠা এই গোলরক্ষক অতীতে আর্থিক সংকটে নিজের ক্রীড়া সরঞ্জাম বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কার তিনি উৎসর্গ করেন অসুস্থ ভাইপোকে, যা তাকে আরও বেশি মানবিক আলোচনায় নিয়ে আসে।

ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজাও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে সাতটি দারুণ সেভ করে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই খেলোয়াড় জীবনের শুরুতে কঠোর সংগ্রাম করেছেন—ঝাড়ুদার, গাড়ি ধোয়া ও টায়ার পরিষ্কারের মতো কাজও করতে হয়েছে তাকে। তার লড়াই আজ তাকে বিশ্বমঞ্চে অনুপ্রেরণার প্রতীক বানিয়েছে।

ঘানার হয়ে আলোচনায় আসেন বেঞ্জামিন আসারে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার দৃঢ় পারফরম্যান্স দলকে ম্যাচে সমতায় রাখতে সাহায্য করে। ক্লাব ফুটবলে খেললেও বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে তিনি প্রমাণ করেন নিজের সক্ষমতা। একই ম্যাচে ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আলি জিঘিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ডিআর কঙ্গোর লিওনেল এমপাসি ছিলেন আরেক নায়ক। পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে তিনি দলকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলটি বিশ্বকাপে নতুন পরিচিতি পায়।

এছাড়া মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিলেরমো ওচোয়া এই আসরে বিদায় নেন আবেগঘন মুহূর্তে। শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি গোলপোস্টে চুমু খেয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান, যা বিশ্ব ফুটবলে এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ ছিল শুধু বড় দলের নয়, ছোট দল ও অজানা নায়কদেরও উত্থানের গল্প—যেখানে ভোজিনহা, গিল, এমপাসি ও রুমের মতো খেলোয়াড়রা প্রমাণ করেছেন, ফুটবলে স্বপ্নের কোনো সীমা নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV