বিনোদন ডেস্ক
দীর্ঘদিন পর আবারও নির্বাচনী আমেজে মুখর ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। প্রায় এক মাস ধরে প্রচার-প্রচারণা, শিল্পীদের সরব উপস্থিতি ও ভোটের উত্তেজনার পর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। ভোট গণনা শেষে সভাপতি পদে বিজয়ী হন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অভিনেতা জয় চৌধুরী।
নির্বাচনে সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও প্রযোজক আরমান পান ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পান ১৭৯ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং চলচ্চিত্র শিল্পীদের অধিকার, কল্যাণ ও এফডিসির সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আবেগঘন বক্তব্যে সভাপতি শিবা শানু বলেন, শিল্পীরা তার ওপর যে আস্থা ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি বলেন, “যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করাই এখন আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গলায় যে ফুলের মালা পরানো হয়েছে, আমি মনে করি সেটি পরার প্রকৃত সময় এখনো আসেনি। যেদিন শিল্পীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারব, সেদিনই সেই সম্মান সত্যিকার অর্থে গ্রহণ করব।”
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। তবে সহকর্মীদের সহযোগিতা, সিনিয়র শিল্পীদের পরামর্শ এবং পুরো প্যানেলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই বিজয় সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ, কর্মঠ ও কার্যকর পরিষদ গঠন করতে চাই। চলচ্চিত্রের সব শিল্পীকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
জয় চৌধুরী আরও জানান, তাদের নির্বাচনী টিমে সিনিয়র শিল্পীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সুব্রতসহ দলের অন্য সদস্যরা পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি জ্যাকি আলমগীরসহ অনেকেই তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন।
নবনির্বাচিত এই দুই নেতা বলেন, ব্যক্তিগত বা প্যানেলভিত্তিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিল্পীদের কল্যাণ, চলচ্চিত্রের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, শিল্পীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে নতুন কমিটির অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিএফডিসিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় দুটি প্যানেলের মধ্যে। একদিকে ছিলেন আরমান–রুমানা ইসলাম মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদ। প্রায় এক মাস ধরে প্রচারণা, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে মুখর ছিল এফডিসি প্রাঙ্গণ। নির্বাচন শেষে এখন শিল্পীদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে আরও কার্যকর ও শিল্পীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে।
Leave a Reply