ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দারুণ এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গোল, পাল্টা গোল, আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ভরপুর ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠিন লড়াই উপহার দিলেও শেষ হাসি হেসেছে লিওনেল মেসির দল। অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। তবে কেপ ভার্দেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে একের পর এক আক্রমণ সামলে নেয়। ম্যাচের ৩০ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লং পাস ধরে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জোরালো শটে গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ২০তম গোল। এই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে দোরি দুয়ার্তের দারুণ এক শটে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া অসাধারণ নৈপুণ্যে মেসির দুটি ফ্রি-কিক ও একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৩তম মিনিটেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার সুযোগ নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে লড়াকু কেপ ভার্দে দ্রুতই জবাব দেয়। সিডনি লোপেস কাবরালের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে ২-২ সমতা ফেরে ম্যাচে।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই ১১১তম মিনিটে আসে নির্ণায়ক মুহূর্ত। মেসির নেওয়া আরেকটি নিখুঁত কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে জয়সূচক গোল করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। শেষদিকে কাবরালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল আকাশি-সাদারা। পুরো ম্যাচে তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখে নায়ক বনে যান লিওনেল মেসি—একটি গোলের পাশাপাশি কর্নার থেকে দুটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। অন্যদিকে হারলেও সাহসী ও সংগঠিত ফুটবল উপহার দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তাদের এই পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো।
Leave a Reply