তিস্তা টিভি ডেস্ক
কৃষক কার্ড চালুর ফলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা আসবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি হবে, যা কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করবে।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কোন অঞ্চলে কোন ফসল বেশি উৎপাদিত হচ্ছে তা সহজেই জানা যাবে। এতে আগে থেকেই চাহিদা নির্ধারণ করে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান না। যেমন টমেটোর ক্ষেত্রে ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে নেওয়ার খরচই কখনো কখনো বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, ফলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এই সমস্যা সমাধানে সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ধারণা অনুযায়ী এসব কোল্ডস্টোরেজ সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) দ্বারা চালানো হবে, যাতে সংরক্ষণ ব্যয় কমে আসে এবং কৃষকের ক্ষতি কমে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতকে টেকসই করতে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা জরুরি। এজন্য সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং দরিদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাট নয়, লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এতে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদন ও ফসলভিত্তিক তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও সহায়তা এই কার্ডের মাধ্যমেই সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘিরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া ও বাজারে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইলিশ রপ্তানি বৃদ্ধিও সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
Leave a Reply