জেলা প্রতিনিধি
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিএনপি সরকার কৃষকদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে এবং দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধান সংগ্রহ ব্যবস্থায় নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মাইকিং করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও লাভজনক করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো হয়েছে এবং কৃষি বিপণন ব্যবস্থাও আরও উন্নত করা হচ্ছে।
এ সময় কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার রোড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই সড়কটি পানি প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। যদি কোনো সমস্যা পাওয়া যায়, তা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। তবে ঢলের পানিতে প্রায় ৩০৫ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১৩ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
অন্যদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হাওরের পানির স্তর কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ফলে তলিয়ে থাকা ধানের কিছু জমি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। কৃষকরা ইতোমধ্যে কেটে আনা ফসল শুকানোর কাজ শুরু করেছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কৃষি খাতকে আধুনিকায়ন ও নিরাপদ করতে গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply