জেলা প্রতিনিধি
গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নকে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী Barrister Farzana Sharmin Pitu। তিনি বলেছেন, গ্রাম উন্নত হলে দেশও উন্নত হবে এবং তখন আর অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকার প্রয়োজন থাকবে না।
সোমবার (৪ মে) সকালে নাটোরের Bagatipara Upazila–এর দয়ারামপুর ও জামনগর ইউনিয়নে বড়াল নদী অভিমুখী দুটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে খাদ্য উৎপাদন, মাছ চাষ ও কৃষি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে না, একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
তার ভাষায়, “খাল খনন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি মানুষের জীবিকার সুযোগও তৈরি করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে মাছ চাষ ও কৃষিকাজে পানির কোনো ঘাটতি থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, কৃষি ও মৎস্য খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যাতে তারা পরিবার ও সমাজে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় তিনি তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, নাটোরে একটি আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (মিট প্রসেসিং জোন) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ এই অঞ্চলে গবাদিপশু উৎপাদন বেশি হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে অনেক সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে, যার কারণে অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তাই সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো নাটোর জেলাকে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের একটি শক্তিশালী অঞ্চলে রূপান্তরের কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা Mohammad Alauddin, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।
সব মিলিয়ে, খাল পুনঃখননকে কেন্দ্র করে এই উন্নয়ন উদ্যোগ শুধু অবকাঠামো নয়, বরং কৃষি, মৎস্য, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে একসঙ্গে শক্তিশালী করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply