তিস্তা নিউজ প্রতিবেদন
দেশের ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর “লুটপাট করে খাওয়া যাবে না” এবং ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করেছেন, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর। বিপুল পরিমাণ এই সম্পদের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে বহু ওয়াকফ সম্পত্তির বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকার এখন এসব সম্পত্তি সঠিকভাবে পরিচালনা করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়।”
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, ওয়াকিফরা মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, কবরস্থান ও বিভিন্ন জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের জন্য যে সম্পত্তি দান করেছেন, সেই সম্পত্তির আয় নির্ধারিত খাতেই ব্যয় করতে হবে। কোনোভাবেই ব্যক্তিস্বার্থে এসব সম্পদ ব্যবহার বা আত্মসাৎ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেট একটি ওয়াকফ স্টেট। সেখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত কম।
তিনি আরও জানান, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর অধীন একটি দোকানের ভাড়া আগে ছিল মাসে ৩৫ হাজার টাকা। পরে ২০২৫ সালে দোকানটি নতুনভাবে ভাড়া দেওয়া হলে মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এতে স্পষ্ট হয়, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি প্রকৃত বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অসংখ্য ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যেগুলো থেকে সরকারের প্রাপ্য আয় আদায় হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এখন এসব সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং প্রতিটি সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রশাসকদের ইতোমধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, অনিয়ম তদন্ত এবং সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দখলদার ও অবৈধ সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধর্মমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সরকারের এই পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
Leave a Reply