তিস্তা নিউজ ডেস্ক
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের উর্বর ক্ষেত্র হতে দেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বজায় রাখা হবে, তবে সেই স্বাধীনতার সুযোগে যেন কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা সহিংস মতাদর্শ বিস্তার লাভ না করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর হোটেল শেরাটন-এ আয়োজিত ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এপিইউবি), যা দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের একটি প্ল্যাটফর্ম।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না; বরং তাদের স্বতন্ত্রতা ও সৃজনশীলতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। তবে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না, যাতে অতীতে ঘটে যাওয়া হলি আর্টিজান হামলা-এর মতো ঘটনা পুনরাবৃত্তি হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো ধরনের জঙ্গিবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এপিইউবির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, এটি শুধু নীতিগত বিষয় নয়, বরং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারেরও অংশ।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা এমন দক্ষতা অর্জন করুক, যা তাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। বিশেষ করে একটি আন্তর্জাতিক ভাষায় পারদর্শিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।” তার মতে, এই দুই ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন একটি নতুন মাত্রা পাবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়, যাতে শিক্ষাঙ্গন জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।
সার্বিকভাবে, সভায় উচ্চশিক্ষা খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
Leave a Reply