আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, তা তিনি এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মে) এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাব।”
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে ৯ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবের জবাবেই ইরান ১৪ দফার একটি সংশোধিত পরিকল্পনা দিয়েছে, যা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের এক বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, “চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসানই আমাদের লক্ষ্য। আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা দিয়েছি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের—তারা কি কূটনীতির পথে এগোবে, নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে।”
প্রস্তাবের শর্তগুলো বেশ কঠোর বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে রয়েছে—
ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা,
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহার,
সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া,
বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া,
এবং লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব রণাঙ্গনে সংঘাতের অবসান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের অবস্থান—দীর্ঘসূত্রতা নয়, বরং ৩০ দিনের মধ্যেই সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমাধান করতে হবে এবং অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ট্রাম্প ইরানের একটি আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে তার পরও আলোচনা পুরোপুরি থেমে যায়নি। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে তিন সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৪ দফা প্রস্তাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়—ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।
Leave a Reply