আন্তার্জাতিক ডেস্ক
ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরমাণু চুক্তিতে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, একতরফাভাবে ঘোষিত ‘অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি’র মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz ঘিরে ইরানের নজরদারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) White House নিশ্চিত করে, ইরান যুদ্ধের অবসান চেয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না হলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার কথা বলা হয়।
তবে এই প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, নৌ-অবরোধ ইতোমধ্যে কার্যকর চাপ তৈরি করেছে এবং এটি ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘বোমাবর্ষণের চেয়েও অবরোধ বেশি কার্যকর।’ তার ভাষায়, ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের জবাবে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করছে। ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন হলে ‘নজিরবিহীন’ জবাব দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের United States Central Command (সেন্টকম) ইরানের ওপর সীমিত হামলার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। এর লক্ষ্য—তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো।
মার্কিন রাজনীতিতেও এ ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কংগ্রেসে শুনানিতে অংশ নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই সংঘাতকে ‘কৌশলগত ভুল’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন সেনা হতাহতের দায়ে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
Pentagon-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন, যা দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Leave a Reply