আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ সচল রাখা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ও অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সহযোগিতা করার অভিযোগে ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল বুধবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তার মন্ত্রণালয়ের ‘বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ’ (OFAC) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কোন দেশের— তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বহু আগে থেকেই ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ইরান একটি ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ গড়ে তুলেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের সহায়তায় বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে তা ইরানের সরকার, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও আইআরজিসির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই তৃতীয় পক্ষের অংশ হিসেবে কাজ করছিল— যারা পরোক্ষভাবে ইরানের তেল বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও সামরিক খাতে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখে।
গত কয়েক বছর ধরে ইরানের তেল বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। সম্প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এ অবরোধ বহাল থাকবে।
Leave a Reply