আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাতারের সাবেক আমির, দেশটির আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম রূপকার এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে রোববার (১২ জুলাই) তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাতারের রাজকীয় দপ্তর আমিরি দিওয়ান।
সরকারি বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলা হয়, মহান আল্লাহর ফয়সালার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে জাতির উদ্দেশে এই দুঃসংবাদ জানানো হচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ফাদার আমির হিজ হাইনেস শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং তার পরিবার ও কাতারের জনগণকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন।’
শেখ হামাদ ১৯৯৫ সালে কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর দেশটির নেতৃত্ব দেন। তার শাসনামলেই কাতার বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের পাশাপাশি কাতারকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় কাতার ফাউন্ডেশন-এর বিস্তৃত কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র এবং বিশ্বজুড়ে আলোচিত আল জাজিরা সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী অবস্থান লাভ করে। একই সময়ে ক্রীড়া খাতেও ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে কাতারকে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন তিনি। তার সময়েই ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বাগতিক হওয়ার অধিকার অর্জন করে দেশটি, যা কাতারের ইতিহাসে অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১৩ সালে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে তুলে দেন। এরপর থেকে তিনি ‘ফাদার আমির’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতেন।
শেখ হামাদের মৃত্যুতে কাতারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক এবং সাধারণ মানুষ তার অবদানের কথা স্মরণ করছেন। কাতারের রাজকীয় দপ্তর জানিয়েছে, খুব শিগগিরই জানাজার সময়সূচি, দাফনের আনুষ্ঠানিকতা এবং রাষ্ট্রীয় শোক পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির নাম দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার নেতৃত্বেই ছোট উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়।
Leave a Reply