তিস্তা টিভি ডেস্ক
টানা কয়েক দিনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে দেশের ১১টি বন্যাকবলিত জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবির সদস্যরা দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি জানায়, শুধু উদ্ধার অভিযান নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার কাজও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ১১ জেলার মোট ৯০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম চালাচ্ছে বিজিবি। কোথাও নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হলে দ্রুত উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।
বান্দরবানে ইতোমধ্যে বিজিবির উদ্ধার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে পড়ে থাকা গাছ ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করেছে বিজিবি। নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিতে পড়া একটি স্টিলের সেতু রক্ষায়ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় মানুষের চলাচল নিরাপদ থাকে।
বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বাহিনীটি।
Leave a Reply