তিস্তা টিভি ডেস্ক
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আধুনিক গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি ও নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। একই সঙ্গে বিদেশি পাটবীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে উচ্চমানের ও উচ্চফলনশীল বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১২ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাট খাতের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশের পাট ছিল বিশ্বের বাজারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য। ‘সোনালি আঁশ’ নামে পরিচিত এই কৃষিপণ্য দেশের অর্থনীতি, কৃষক ও শিল্প খাতে বড় অবদান রেখেছে। তবে সময়ের পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও নানা চ্যালেঞ্জের কারণে পাটশিল্প আগের অবস্থান হারিয়েছে। এখন সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাট উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য দেশীয়ভাবে উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে বীজ আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকদের হাতে মানসম্মত বীজ পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের পাটভিত্তিক শিল্পকে শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণে কাঁচা পাট রপ্তানিকে সরকার নিরুৎসাহিত করছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কাঁচা পাটের পরিবর্তে দেশে উৎপাদিত পাটজাত ও মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানি বাড়ানো।
মো. শরীফুল আলম বলেন, পাট থেকে তৈরি বহুমুখী পণ্য যেমন ব্যাগ, হোম ডেকোরেশন সামগ্রী, পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, বাড়বে কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ।
কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার পাটচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। উৎপাদন খরচ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা পাট চাষে আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন।
এর আগে কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অসহায় ও দুস্থ ১৮ জন নারীর হাতে মোট ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে পাঁচজন নারীর মধ্যে বিতরণ করা হয় সেলাই মেশিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে যেতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
Leave a Reply