তিস্তা টিভি ডেস্ক
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা আরও কার্যকর ও আধুনিক করার লক্ষ্যে আয়োজিত পঞ্চম ইউএন চিফস অব পুলিশ সামিট (ইউএন-কপস)-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আগামী ৭ ও ৮ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরে তিনি পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
৮ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনসহ সম্মেলনের একাধিক প্লেনারি সেশনে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সম্মানে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজ এবং একাধিক সাইডলাইন কর্মসূচিতেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের ইউএন-কপস সম্মেলনে জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। এগুলো হলো—জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ কৌশল ও রূপরেখা নির্ধারণ, শান্তিরক্ষা মিশনে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও আধুনিক পুলিশিংয়ের ব্যবহার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার।
সফরের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অপারেশনাল সাপোর্টবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, পিস অপারেশনসবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া এবং পলিটিক্যাল অ্যান্ড পিসবিল্ডিং অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ. ডিকার্লো।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। এসব বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশপ্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইউএন-কপস সম্মেলনকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পুলিশি সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সফর শেষে আগামী ১২ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
Leave a Reply