ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপপর্বে টানা তিন জয়ে দারুণভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। তবে শুধু পয়েন্ট টেবিলের সাফল্য নয়, জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হজম করা প্রথম গোল এবং বিশ্বকাপের কিছু পুরোনো পরিসংখ্যান ঘিরেও এখন আলোচনায় আলবিসেলেস্তেরা।
লিওনেল স্কালোনির দল মিশন শুরু করেছিল দারুণভাবে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩–০ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়ে আগেই নিশ্চিত করে ফেলে গ্রুপ ‘জে’র শীর্ষস্থান। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি হয়ে দাঁড়ায় শুধুই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার লড়াই।
প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ছিল রক্ষণে অটল। শুধু ক্লিন শিটই নয়, প্রতিপক্ষদের কোনো পরিষ্কার গোলের সুযোগও দেয়নি তারা। এমন পারফরম্যান্সের কারণে এবারের আসরে একমাত্র গোল না খাওয়া দল হিসেবেও শেষ ম্যাচে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা।
কিন্তু সেই রেকর্ড ভাঙতে বেশি সময় নেয়নি জর্ডান। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে মুসা আল তামারি দুর্দান্ত এক গোল করে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে দেন। এটিই এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম বৈধ গোল। এর আগে আলজেরিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল।
এই গোলের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান—যে কোনো দল যদি গ্রুপপর্বে একটিও গোল না খেয়ে শেষ করে, তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি। জর্ডানের গোলের মাধ্যমে সেই ‘রেকর্ড চাপ’ থেকে আপাতত মুক্তি পেল আর্জেন্টিনা।
আরেকটি পরিসংখ্যানও ঘুরে ফিরে আলোচনায় এসেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এবারের আসরে আর্জেন্টিনা শীর্ষ র্যাঙ্কিং নিয়েই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
শুধু আর্জেন্টিনা নয়, একই ধরনের পরিসংখ্যানের চাপ আছে ফ্রান্সের ওপরও। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপ বছরের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলারকে দলে রেখে কোনো দেশ এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এবার ফ্রান্সের স্কোয়াডে আছেন বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা উসমান দেম্বেলে।
এখন প্রশ্ন একটাই—পরিসংখ্যানের এসব ‘ধারা’ কি এবার ভাঙবে, নাকি আবারও ইতিহাসই লিখবে শেষ কথা? আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স—দুই শিরোপাপ্রত্যাশী দলের পরবর্তী পথচলাই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
Leave a Reply