তিস্তা টিভি ডেস্ক
বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে করমুক্ত আয়সীমা বার্ষিক ৬ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ভিশনের বাস্তবায়নের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে পূর্বাচলে এক জনসমাবেশে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, এবারের বাজেট তারই ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। তার ভাষায়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তায় যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের মডেল অনুসরণ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করার উদ্যোগ সময়োপযোগী।
উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ তুলে তিনি উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ধাপে ধাপে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ। দ্রুত জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন। তার মতে, ৬০০টি উপজেলায় একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে অগ্রাধিকারভিত্তিকভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া উচিত।
কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকায় নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। তার যুক্তি, বর্তমান সময়ে মাসে ৫০ হাজার টাকার নিচে আয় দিয়ে একটি পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়েও এখন অনেক সক্ষম করদাতা আছেন, তাই কর আদায়ে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি।
নিজ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাজেট কিছুটা কমলেও প্রয়োজনে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সরকার আশ্বস্ত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল বিষয় এবং কোনো ধরনের জনপ্রিয়তাবাদ নয়, বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে টেকসই সমাধান বের করা প্রয়োজন।
এছাড়া চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা এখনো অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। এ কারণে চরাঞ্চল উন্নয়নের জন্য আলাদা ফাউন্ডেশন বা কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন চাহিদা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অর্থনীতিবিদদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply