ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। জর্ডানকে ৩–১ গোলে হারিয়ে শেষ করেছে তারা গ্রুপ পর্বের অভিযান। তবে স্কোরলাইনের চেয়েও বেশি আলোচনায় এখন জিওভানি লো সেলসোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোল এবং সেই সেট-পিসের নেপথ্য কৌশল, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের।
ম্যাচের শুরুতেই ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লো সেলসো। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল সরাসরি জর্ডানের গোলকিপার ইয়াজিদ আবু লাইলার নাগালের বাইরে গিয়ে জালে জড়ায়—উপরের ডান কোনায় বল ঠেকাতে কোনো সুযোগই পাননি তিনি।
তবে এই গোলের পেছনে ছিল বিশেষ পরিকল্পনা। ফ্রি-কিকের আগে আর্জেন্টিনা গড়ে তোলে তিন খেলোয়াড়ের একটি ডিফেন্সিভ ওয়াল—জুলিয়ানো সিমেওনে, মার্কো সেনেসি এবং নিকোলাস ওতামেন্দি। এই পুরো সেটআপটি সাজিয়েছিলেন নিজেই গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। শুধু এই ম্যাচেই নয়, ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও এমন কৌশল সাজানোর অভ্যাস রয়েছে তার।
মার্তিনেজের নির্দেশনায় তৈরি হওয়া এই ‘ডিকয় ওয়াল’ প্রতিপক্ষের গোলকিপারের অবস্থান বিভ্রান্ত করে দেয়, যার সুযোগ নেন লো সেলসো। গোল হওয়ার পর দেখা যায়, দিবু মার্তিনেজ নিজেই উদযাপনে মেতে ওঠেন।
ম্যাচ শেষে লো সেলসো জানান, বিরতির সময় দলের মধ্যে লিওনেল মেসির সঙ্গে ফ্রি-কিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে গোলকিপার কীভাবে অবস্থান নেন, সে বিষয়েই পরিকল্পনা সাজানো হয়।
এই আলোচনার প্রভাব মাঠেও দেখা যায়। পরে ম্যাচে লিওনেল মেসিও ফ্রি-কিকে দারুণ এক গোল করেন, যেখানে তিনি গোলকিপারের কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। সেটি ছিল ম্যাচে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল, যা ৩–১ ব্যবধান নিশ্চিত করে।
এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা দাঁড় করান ১৯-এ, যা তাকে সর্বকালের অন্যতম শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। আর্জেন্টিনার এই জয় তাই শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং তারকাদের সমন্বয়ের এক চমৎকার উদাহরণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল আলোচনায়।
Leave a Reply