ক্রীড়া ডেস্ক
শুরুটা হয়েছিল হতাশা দিয়ে। প্রথম ম্যাচে হার, দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাফানা বাফানারা। প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালুপেতে অনুষ্ঠিত ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনো ফল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য যথেষ্ট ছিল না। সেই চাপের মধ্যেই দারুণ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় তারা। ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে শেপাং মোরেমির নিখুঁত ক্রস থেকে থাপেলো মাসেকো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই এক গোলই পার্থক্য গড়ে দেয় দুই দলের মধ্যে।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে উঠেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। আগামী রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গেলউডে অনুষ্ঠিতব্য নকআউট ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ কানাডার মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রা শুরু হয়েছিল মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলের পরাজয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ সমতা এনে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা জাগিয়ে রাখে তারা। তবে শেষ ম্যাচের আগে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে থাকায় নকআউটে উঠতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না। সেই কঠিন পরীক্ষায় উতরে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে আফ্রিকান দলটি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এটি ছিল বড় হতাশার সমাপ্তি। চেক রিপাবলিককে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হারার পর শেষ ম্যাচেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার অতীত বেশ সমৃদ্ধ। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত আসরে প্রথম এশিয়ান দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল তারা। এছাড়া ২০০২ ও ২০১০ সালে নকআউট পর্বেও খেলেছিল কোরিয়ানরা। তবে এবারের আসরে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি দলটি।
অন্যদিকে, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
Leave a Reply