ক্রীড়া ডেস্ক
দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল মরক্কো। হাইতির বিপক্ষে চার গোলের ঝড়ে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা ‘সি’ গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে শেষ ৩২-এর টিকিট পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেখায় ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া হাইতি। মাত্র ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় ক্যারিবীয় দেশটি। লেনি জোসেপের ব্যাকহিল প্রচেষ্টা মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর শরীরে লেগে জালে ঢুকে গেলে গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
প্রথম ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে মরক্কো। একের পর এক আক্রমণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। অবশেষে ৩৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে দলটি। ব্রাহিম দিয়াসের শট প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন হাইতির গোলরক্ষক, ফিরতি বলে আশরাফ হাকিমি সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন।
তবে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। চার মিনিট পরই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া উইলসন ইসিডোরের শক্তিশালী শটে আবারও এগিয়ে যায় হাইতি। প্রথমার্ধের শেষদিকে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত ফিনিশিং মরক্কোকে স্বস্তি এনে দেয়। ২-২ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে মরক্কো। হাইতির রক্ষণভাগকে ক্রমাগত চাপে রেখে অবশেষে ৭৮তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় তারা। দলের অন্যতম ভরসা সুফিয়ান রাহিমি গোল করে প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে দেন মরক্কোকে।
গোল হজমের পর হাইতি সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সুযোগ দেয়নি। উল্টো ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে গেসিমে ইয়াসিন আরও একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়ে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ শেষে মরক্কোর সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট পেলেও উন্নত গোল ব্যবধানে গ্রুপসেরা হয়েছে ব্রাজিল। ফলে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন এবং মরক্কো রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে।
মরক্কোর এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তারা গত বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলেছিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
অন্যদিকে স্কটল্যান্ড তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। হাইতি তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়ে কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি এবং গ্রুপের তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে।
Leave a Reply