মোঃ এমদাদুল হক তিস্তা টিভি ডেস্ক
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে সার ও ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এ কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করা এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন নির্বাচিত কৃষককে ১০ কেজি ডিএপি (ডায়ামোনিয়াম ফসফেট) সার, ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার এবং ৫ কেজি উন্নত জাতের উফশী ধানের বীজ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে এসব কৃষি উপকরণ তুলে দেন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন সুফলভোগী কৃষকরা। তারা জানান, বর্তমান সময়ে সার ও উন্নত মানের বীজের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিনামূল্যে সার ও বীজ সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং সময়মতো জমিতে বীজ রোপণ করে চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রণোদনা গ্রহণকারী কয়েকজন কৃষক বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এ ধরনের সহায়তা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বাছাই করেই এই প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকৃত কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, সঠিক নিয়মে বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ এবং সারের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন। কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকি ও সরকারি সহায়তার ফলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ধানের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি প্রণোদনার এই কার্যক্রম কৃষকদের মাঝে চাষাবাদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
Leave a Reply