1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
June 24, 2026, 10:03 pm

অনলাইন জুয়া-বেটিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, June 24, 2026
  • 18 Time View

তিস্তা টিভি ডেস্ক

অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’, যেখানে অনলাইন বেটিংসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। সংসদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। পরে বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে মোট ১৪ ধরনের জুয়াসংক্রান্ত অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করে পৃথক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অনলাইন বা দূরবর্তী মাধ্যমে পরিচালিত জুয়ার ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অন্যদিকে অনলাইন বেটিং পরিচালনা, প্রচার বা অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

খেলাধুলার স্বচ্ছতা রক্ষায় ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড কিংবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সহজলভ্যতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন জুয়া ও বেটিং অ্যাপের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ দ্রুত অর্থ আয়ের আশায় এসব প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। নতুন আইন কার্যকর হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে কার্যকর ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ অত্যন্ত পুরোনো এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বাস্তবতা মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া নিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছিল।

সরকারের আশা, নতুন আইন পাস হলে অনলাইন জুয়া, বেটিং সিন্ডিকেট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV