মোনাবেরুল হক জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সোহাগের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) সকালে মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী, ভুক্তভোগীর পরিবার ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মইনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। সম্প্রতি মাথাভাঙ্গা এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সোহাগ। এর জের ধরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত লেবু ঠিকাদারের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কাজটি অন্য একটি পক্ষ লিখে নেওয়ার পর এলাকায় নানা ধরনের অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সোহাগ সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তারা আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের নামে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তার মেনে নেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী এস এম আলেকজান্ডার বলেন, “সড়ক নির্মাণকাজ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
Leave a Reply