সন্তানদের নামে ইউনিয়নের নাম, প্রতিমন্ত্রীর দাবি-এ এক অলৌকিক মিল’
Reporter Name
Update Time :
Tuesday, June 16, 2026
4 Time View
তিস্তা টিভি ডেস্ক
নতুন গঠিত মোকামতলা উপজেলায় দুটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই সন্তানের নামের সঙ্গে নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নামের মিল পাওয়ায় বিরোধী দলের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, এটি কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নয়; বরং ‘অলৌকিকভাবে’ নামের মিল হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এমন কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে, যা সরাসরি তার পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে।
সম্প্রতি বগুড়া-২ আসনের শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন মোকামতলা উপজেলা গঠন করা হয়। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘সীমান্ত’ ইউনিয়ন এবং দেউলী ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। একইসঙ্গে ‘মীরবাড়ি’ নামে আরও একটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক বাড়ির নামের সঙ্গে মিলে যায়।
বিরোধী সদস্যদের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে নতুন ইউনিয়নগুলোর নামের মিল নিছক কাকতালীয় বলে বিশ্বাস করা কঠিন। সংসদে এ প্রসঙ্গ তুলে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বর্তমান সরকার পরিবারের সদস্যদের নামে রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণ নিরুৎসাহিত করার কথা বললেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় জনগণের মতামত, গণশুনানি ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই নাম নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্ত ইউনিয়নটি পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলার সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এই নাম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দূরবর্তী অবস্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দেউলী ইউনিয়নের অংশ নিয়ে গঠিত নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে দিগন্ত।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমার ছেলেদের নামের সঙ্গে নাম মিলে গেছে, এটা সত্য। কিন্তু যদি ব্যক্তিগতভাবে নামকরণের ইচ্ছা থাকত, তাহলে ‘মীর সীমান্ত’ বা ‘মীর দিগন্ত’ নাম রাখার চেষ্টা করতাম। নতুন ইউনিয়নের নামের আগে তো ‘মীর’ শব্দটি নেই।”
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বিষয়টিকে রসিকতার সুরেও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দেশে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ শব্দ ব্যবহার করে বহু প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম রয়েছে। এ সময় তিনি সীমান্ত ব্যাংক, সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন এবং রাজধানীর দিগন্ত টাওয়ারের উদাহরণ টেনে বলেন, এসবও কি তার পরিবারের নামে করা হয়েছে?
তবে বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রতিমন্ত্রীর হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘মীর সীমান্ত ফিলিং স্টেশন’ এবং ‘মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে নতুন ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে ওঠা প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
এদিকে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা না গেলেও নতুন ইউনিয়নের নাম নির্ধারণের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের হাতে ন্যস্ত। ফলে আইনগতভাবে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণকে কেন্দ্র করে সংসদে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতি এবং জনমতের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘মীরবাড়ি’—এই তিন নামের পেছনে কাকতালীয় মিল নাকি রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
Leave a Reply