আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সের আসন্ন G7 Summit-কে ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুইজারল্যান্ডের Geneva শহর। বিশ্বায়ন, পুঁজিবাদ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তরসংলগ্ন এলাকা। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বোতল, পাথর ও আতশবাজি ছুড়ে মারে। জবাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ জাতিসংঘের টেলিকমিউনিকেশন ভবনের আশপাশে ভাঙচুর চালায় এবং নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন কিছু স্থানে ফ্লেয়ার ও আগুন জ্বালানো বস্তু নিক্ষেপ করা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই জেনেভায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কয়েক হাজার নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে, প্রতিবাদকারীদের একটি বড় অংশ ফ্রান্সের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ করে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ সম্মেলন ভেন্যুর কাছাকাছি বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা সীমান্তবর্তী জেনেভাকে কেন্দ্র করে সমাবেশ করে বলে জানা যায়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ মিছিল থাকলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে কিছু বিক্ষোভকারী দোকানের সুরক্ষাব্যবস্থার কাঠামো খুলে ফেলে, জানালা ভাঙচুর করে এবং একটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিক এলাকায় অভিযান চালায়।
প্রতিবাদকারীরা মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, পরিবেশনীতি, এবং ধনী দেশগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। বিশ্লেষকদের মতে, G7 Summit ঘিরে এমন বিক্ষোভ নতুন নয়; বরং প্রতি বছরই বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সময় এ ধরনের আন্দোলন দেখা যায়।
এদিকে সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বের সাতটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের নেতারা ফ্রান্সের এভিয়ন অঞ্চলে একত্র হচ্ছেন। আলোচনায় ইউক্রেন সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply