1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
June 6, 2026, 3:32 pm

মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পেলেন বাংলাদেশের ৬ বীর

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, June 6, 2026
  • 17 Time View

তিস্তা টিভি ডেস্ক

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করা বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর অন্যতম ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের অসামান্য সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres বাংলাদেশের পক্ষে পদকগুলো তুলে দেন Salahuddin Noman Chowdhury-এর হাতে।

সম্মাননাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন করপোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলি এলাকায় জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত হন।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ উপলক্ষে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।

এ বছর বিশ্বের ৩৩টি দেশের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের এই ছয় সদস্যের আত্মত্যাগ বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে হাজার হাজার বাংলাদেশি সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।

অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন এবং তাদের আত্মত্যাগকে জাতির জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগে চালু করা হয়। জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব Dag Hammarskjöld-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ পদকের নামকরণ করা হয়। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক প্রদান করা হয়।

বিশ্ব শান্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করা বাংলাদেশের এই ছয় বীর শান্তিরক্ষীর আত্মত্যাগ জাতিসংঘের ইতিহাসে যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের জন্যও হয়ে থাকবে গর্ব ও সম্মানের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV