নেপালের দখলে ভারতীয় কিছু জমি রয়েছে: বালেন্দ্র শাহের দাবি
Reporter Name
Update Time :
Monday, June 1, 2026
13 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেছেন, শুধু ভারত নেপালের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে—এমন নয়; নেপালও বিভিন্ন স্থানে ভারতের কিছু ভূমি দখলে রেখেছে। তাই সীমান্ত বিরোধ নিয়ে একপাক্ষিক অভিযোগ না তুলে দুই দেশের উচিত বাস্তবতা মেনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা।
রোববার (৩১ মে) দেশটির পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় শ্রম সংস্কৃতি পার্টির সংসদ সদস্য অ্যারেন রাইয়ের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সীমান্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও সরকারি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে শুধু নেপালের ভূখণ্ড নয়, ভারতের কিছু জমিও নেপালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ধরনের জটিল সমস্যার সমাধান কেবল কূটনৈতিক আলোচনা ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি বলেন, “সীমান্ত প্রশ্নে দুই দেশকেই বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে। ঐতিহাসিক নথি, জরিপ প্রতিবেদন এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন।”
সংসদে ভারত-চীন বাণিজ্য করিডোর এবং লিপুলেখ ইস্যু নিয়েও কথা বলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি অঞ্চলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের যে সীমান্ত বিরোধ রয়েছে, তা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করার চেষ্টা চলছে।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, এ বিষয়ে নেপাল সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে এবং ভারতও তার জবাব দিয়েছে। ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে, দুই দেশের ইতিহাসবিদ, জরিপ বিশেষজ্ঞ, ভূগোলবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কারিগরি দল গঠন করা হবে। ওই দল সীমান্তসংক্রান্ত ঐতিহাসিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খুঁজবে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত বিরোধের বিষয়টি কেবল ভারত-নেপাল সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ঐতিহাসিক পটভূমি ব্রিটিশ ভারতের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এজন্য নেপাল এ বিষয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করেছে।
তার ভাষায়, “যেহেতু সমস্যার সূত্রপাত উপনিবেশিক আমলে, তাই যুক্তরাজ্যেরও এ বিষয়ে নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায় রয়েছে। আমরা আশা করি তারা বিষয়টির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেবে।”
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বালেন্দ্র শাহ সরকারের বিভিন্ন সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিভিন্ন কমিশন ও তদন্ত সংস্থার জমা দেওয়া প্রতিবেদনগুলো সরকার পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করছে এবং সেগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ এবং গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেন-জেড নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কিছু ভূখণ্ড নেপালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর এমন মন্তব্য দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি সীমান্ত সমস্যার সমাধানে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
Leave a Reply