জলঢাকা (নীলফামারী):
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ব্রাহ্মণ (পুরোহিত) সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, ধর্মীয় দায়িত্ব পালন, সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলার মুদিপাড়া সর্বজনীন হরি ও দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় পুরোহিত সমাজের প্রতিনিধিসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল আলম এবং জলঢাকা ব্রাহ্মণ সমিতির সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র দেব শর্মা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুদিপাড়া সর্বজনীন হরি ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জলঢাকা উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক লিটন চন্দ্র কর্মকার।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত পুরোহিত, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা পুরোহিত সমাজের নানাবিধ সমস্যা, ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাসহ কল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বাংলাদেশের বহুকালীন ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা এবং সহাবস্থানের সংস্কৃতি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করাই একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি। এ লক্ষ্যে সরকার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
Leave a Reply