জলঢাকা প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাজিরহাট হাজিপাড়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে মাটি ভরাট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) সকালে স্থানীয় মুসল্লি, এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহুদিনের প্রত্যাশিত এ উন্নয়ন কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নিচু ও জলাবদ্ধ অবস্থার কারণে ঈদগাহ মাঠটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ঈদের জামাত আয়োজনের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিকল্প স্থান খুঁজতে বাধ্য হতেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে মাঠটি সংস্কার ও ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে মাটি ভরাট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের কাজের শুভ সূচনা করেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থাপনা ও ঈদগাহ মাঠ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এসব স্থানের উন্নয়ন স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে স্থানীয় জনগণের চাহিদাভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, মাটি ভরাট কাজ সম্পন্ন হলে ঈদগাহ মাঠটি শুধু ঈদের জামাত নয়, বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও অধিকতর উপযোগী হয়ে উঠবে। পাশাপাশি মাঠে জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হওয়ায় বছরের যেকোনো সময় মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
তারা উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হলে এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করতে পারবেন বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বহু বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা ঈদগাহ মাঠটির উন্নয়ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। মাটি ভরাট ও সংস্কার কাজ শেষ হলে মাঠটি আরও সুন্দর, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠবে। এতে ধর্মীয় পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডও আরও প্রাণবন্ত হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিণ কাজিরহাট হাজিপাড়া ঈদগাহ মাঠ একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় অবকাঠামো হিসেবে গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Leave a Reply